জাপানে স্টুডেন্ট ভিসা (留学) — বাংলাদেশিদের সম্পূর্ণ গাইড

সর্বশেষ হালনাগাদ: 2026-07

স্টুডেন্ট ভিসা (留学) কী — আর এই পথ কাদের জন্য

জাপানে পড়াশোনার জন্য যে রেসিডেন্স স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, তার নাম 留学 (রিউগাকু) — বাংলায় আমরা যাকে স্টুডেন্ট ভিসা বলি। এই ভিসায় ভাষা-স্কুল, সেনমন গাক্কো (ভোকেশনাল কলেজ) বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া যায়। জাপান সরকার বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়াতে চায় — ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ঘোষণা করা আছে — তাই দরজা খোলা; কিন্তু একই সাথে যাচাই-বাছাইও বছর বছর কড়া হচ্ছে, বিশেষ করে ভাষা-স্কুলমুখী আবেদনে।

এই পথ সবচেয়ে ভালো মেলে তাদের সাথে, যাদের বয়স তুলনামূলক কম, পরিবারের সত্যিকারের আর্থিক সামর্থ্য আছে, আর লক্ষ্য শুধু “জাপানে ঢোকা” না — ডিগ্রি, ভালো চাকরি, দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার। খরচ কম রাখতে চাইলে বা দ্রুত কাজ শুরু করতে চাইলে SSW-র পথটা অনেকের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত — সেটা নিয়ে আমাদের আলাদা গাইড আছে, দুটো পড়ে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

শুরুতেই সৎ কথাটা বলে রাখি: স্টুডেন্ট পথ ব্যয়বহুল, আর “গিয়ে পার্ট-টাইম করেই সব খরচ তুলে ফেলবেন” — এই গল্পটা দালালের বানানো, বাস্তবের না। কিন্তু যে পরিবার হিসাব করে প্রস্তুতি নেয় আর যে শিক্ষার্থী ভাষা শিখে মন দিয়ে পড়ে, তার জন্য এটাই জাপানে সবচেয়ে প্রশস্ত ভবিষ্যতের পথ। এই গাইডে পুরো প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে, রঙচঙ না মাখিয়ে দেখব।

ভাষা-স্কুল নাকি সরাসরি কলেজ-ইউনিভার্সিটি — দুই পথের হিসাব

বাংলাদেশ থেকে যারা যান, তাদের বড় অংশ প্রথমে জাপানি ভাষা-স্কুলে ভর্তি হন — দেড় থেকে দুই বছর ভাষা শিখে তারপর উচ্চশিক্ষা বা চাকরির দিকে এগোন। কারণটা সহজ: জাপানের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ও সেনমন গাক্কোতে পড়ানো হয় জাপানিতে, ভর্তিতে N2-মানের ভাষা বা EJU পরীক্ষা লাগে — যা বাংলাদেশে বসে অর্জন করা বেশ কঠিন। ভাষা-স্কুল সেই সিঁড়িটাই তৈরি করে দেয়।

সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথও আছে — কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি-মাধ্যম প্রোগ্রাম চালু, সেখানে IELTS-জাতীয় প্রমাণ আর ভালো একাডেমিক রেজাল্ট লাগে; আর মেধাবীদের জন্য আছে MEXT-এর মতো সরকারি স্কলারশিপ। তবে সৎভাবে বললে, এসব আসন সীমিত আর প্রতিযোগিতা তীব্র — সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য ভাষা-স্কুল হয়ে যাওয়াটাই বাস্তবসম্মত ও প্রমাণিত পথ।

তৃতীয় নামটাও চিনে রাখুন: সেনমন গাক্কো (専門学校) — দুই বছরের কারিগরি ডিপ্লোমা, যেখানে আইটি, অটোমোবাইল, হোটেল-ম্যানেজমেন্ট, কেয়ারের মতো চাকরিমুখী বিষয় পড়ানো হয়। ভাষা-স্কুল শেষ করে অনেক বাংলাদেশি এই পথেই যান, কারণ সেনমন শেষে জাপানে চাকরি পাওয়ার হারও ভালো। অর্থাৎ ছবিটা এমন: ভাষা-স্কুল হলো প্রবেশদ্বার, তার ওপারে কয়েকটা দরজা — কোনটা খুলবেন, তা আপনার লক্ষ্য আর প্রস্তুতির ওপর।

ভাষা-স্কুলে ভর্তির শর্ত — ২০২৬-এর কড়াকড়িসহ

প্রথম শর্ত শিক্ষাগত: সাধারণত ১২ বছরের শিক্ষা, মানে এইচএসসি বা সমমান পাস লাগে। এইচএসসির পর লম্বা স্টাডি-গ্যাপ থাকলে আবেদন বাতিল হয় না ঠিকই, কিন্তু ইমিগ্রেশন গ্যাপের যৌক্তিক ব্যাখ্যা চায় — এই সময়ে কী করেছেন (চাকরি, ব্যবসা, কোর্স) তার কাগজসহ। গ্যাপ যত বড়, ব্যাখ্যা তত জোরালো হওয়া চাই — এটা আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন।

দ্বিতীয় শর্ত জাপানিজ-শেখার প্রমাণ — আর এখানেই ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় খবর। আগে দেশের কোনো ইনস্টিটিউটে ১৫০+ ঘণ্টা জাপানি শেখার সার্টিফিকেটেই অনেক ক্ষেত্রে চলত; এখন নিয়ম কড়া হয়েছে — ২০২৬ সালের ইনটেকগুলো থেকে ভাষা-স্কুলমুখী নতুন COE আবেদনে JLPT N5 বা সমমান পরীক্ষা (JFT-Basic, NAT, J.TEST ইত্যাদি) পাসের যাচাইযোগ্য প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু সার্টিফিকেট কিনে আর পার পাওয়া যাবে না — সত্যি সত্যি N5 লেভেলের জাপানি জানতে হবে। নিয়মের খুঁটিনাটি স্কুল ও সময়ভেদে বদলায়, তাই আবেদনের আগে স্কুল থেকে হালনাগাদ চাহিদা জেনে নিন।

আমাদের চোখে এই কড়াকড়িটা আসলে সুখবর — কারণ ভাষা না জেনে জাপানে পৌঁছে কষ্ট পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে। আর মনে রাখবেন, প্রতিটি কাগজ আসল হতে হবে: সার্টিফিকেট, মার্কশিট, ব্যাংকের কাগজ — সব। জাপানের ইমিগ্রেশন ডকুমেন্ট খুঁটিয়ে যাচাই করে; ভুয়া কাগজ একবার ধরা পড়লে শুধু সেই আবেদন না, ভবিষ্যতের সব দরজাই কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

ইনটেক চারটা — কোনটা ধরবেন, কবে শুরু করবেন

ভাষা-স্কুলে বছরে চারটা ইনটেক: এপ্রিল, জুলাই, অক্টোবর আর জানুয়ারি। এপ্রিলেরটা সবচেয়ে বড় — জাপানের শিক্ষাবর্ষ এপ্রিলে শুরু হয় বলে দুই বছরের পূর্ণ কোর্স মেলে; অক্টোবর দ্বিতীয় বৃহত্তম, কোর্স দেড় বছরের। জুলাই আর জানুয়ারি তুলনামূলক ছোট ইনটেক — কোর্সের দৈর্ঘ্য সেভাবে সাজানো, যেন সবার শেষটা এপ্রিলের ভর্তি-মৌসুমের সাথে মেলে।

সময়ের হিসাবটা জরুরি: ইনটেকের অন্তত ৫-৬ মাস আগে থেকে প্রক্রিয়া শুরু হয়। যেমন এপ্রিল ইনটেক ধরতে চাইলে আগের বছরের আগস্ট-অক্টোবরে স্কুল বাছাই ও কাগজ জমা, তারপর স্কুল ইমিগ্রেশনে COE-র আবেদন করে, ফেব্রুয়ারি-মার্চে COE ও ভিসা — এই ছন্দে চলে (সময় স্কুল ও ইমিগ্রেশনভেদে কমবেশি হয়)। অর্থাৎ “আগামী মাসেই যাব” বলে স্টুডেন্ট ভিসায় আসা যায় না — পরিকল্পনাটাই এখানে অর্ধেক কাজ।

কোন ইনটেক ধরবেন? উত্তরটা আপনার প্রস্তুতির আয়নায় দেখুন: N5 পরীক্ষা পাস হয়েছে কি, টাকার গোছগাছ হয়েছে কি, কাগজপত্র তৈরি কি। না হয়ে থাকলে তাড়াহুড়ো করে দুর্বল ফাইল জমা দেওয়ার চেয়ে পরের ইনটেক ধরা অনেক ভালো — কারণ একবার COE প্রত্যাখ্যাত হলে সেই রেকর্ড থেকে যায়, পরের আবেদন আরও কঠিন হয়। ধৈর্য এখানে দুর্বলতা না, কৌশল।

ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া — স্কুল বাছাই থেকে ভিসা-স্ট্যাম্পিং

ধাপ ১ — স্কুল বাছাই: জাপান সরকারের স্বীকৃত (認定) ভাষা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্কুলটা আছে কি না দেখুন; সাথে দেখুন স্কুলের উচ্চশিক্ষায় প্রোগ্রেশনের রেকর্ড, শিক্ষার্থী-সাপোর্ট আর টিউশনের স্বচ্ছ হিসাব। ধাপ ২ — আবেদন: ফর্ম, ছবি, শিক্ষাগত সনদ, ভাষা-প্রমাণ, স্পন্সরের কাগজ জমা; অনেক স্কুল অনলাইনে ছোট ইন্টারভিউ নেয় — সহজ জাপানিতে নিজের পরিচয় আর পড়ার উদ্দেশ্য বলতে পারলেই যথেষ্ট, মুখস্থ বুলির দরকার নেই।

ধাপ ৩ — COE: স্কুল আপনার হয়ে জাপানের ইমিগ্রেশনে Certificate of Eligibility-র আবেদন করে। এতে সাধারণত দুই-তিন মাস লাগে — সময়টা পরিবর্তনশীল। COE মঞ্জুর হলে স্কুল জানাবে; এই পর্যায়ে প্রথম টিউশন (সাধারণত প্রথম ৬ মাস বা এক বছরের) পাঠাতে হয়, তারপর স্কুল COE পাঠিয়ে দেয়। খেয়াল করুন — টাকার লেনদেন সরাসরি স্কুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, রসিদসহ; দালালের হাতে নগদ না।

ধাপ ৪ — ভিসা-স্ট্যাম্পিং: COE হাতে পেয়ে ঢাকার জাপান দূতাবাস/নির্ধারিত ভিসা-সেন্টারে পাসপোর্ট, COE, ছবি ও ফর্মসহ আবেদন করবেন; কয়েক কর্মদিবস থেকে কয়েক সপ্তাহে ভিসা হয়। মনে রাখবেন, COE মানে ইমিগ্রেশনের ছাড়পত্র — ভিসা প্রায় সবাই পান, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দূতাবাসের; শতভাগ নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। ভিসা পেলে টিকিট, সিম-ব্যাংকের পরিকল্পনা আর স্কুলের প্রি-ডিপারচার নির্দেশনা — ব্যস, যাত্রা শুরু।

খরচের বাস্তব হিসাব — ইয়েন আর টাকায়

টিউশন: ভাষা-স্কুলের বছরের খরচ সাধারণত ৬ থেকে ৯ লাখ ইয়েনের ঘরে — টোকিওর নামী স্কুলে ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, ছোট শহরে কম। টাকায় ধারণা দিতে গেলে, ১ ইয়েন মোটামুটি ৮০ পয়সার আশপাশে ধরলে (রেট পরিবর্তনশীল) বছরের টিউশন প্রায় ৫ থেকে ৭.৫ লাখ টাকা। সাথে ভর্তি-ফি, বিমা ইত্যাদি ছোটখাটো খরচ যোগ হয়।

জীবনযাত্রা: শেয়ার-রুম বা স্কুলের ডরমিটরিতে ভাড়া মাসে মোটামুটি ৩-৭ ম্যান ইয়েন (৩০-৭০ হাজার ইয়েন), খাওয়া-যাতায়াত-ফোনসহ মাসিক মোট খরচ শহরভেদে প্রায় ৮ থেকে ১২ ম্যান ইয়েন — টোকিওতে বেশি, ফুকুওকা-সাপ্পোরোর মতো শহরে কম। প্রথম কয়েক মাস পার্ট-টাইম গুছিয়ে উঠতে সময় লাগে, তাই অন্তত শুরুর ৩-৪ মাসের জীবনযাত্রার টাকা সাথে নিয়ে যাওয়াই নিরাপদ।

সব মিলিয়ে প্রথম ধাক্কায় — এক বছরের টিউশন, শুরুর মাসগুলোর থাকা-খাওয়া, টিকিট, টুকিটাকি — অনেক পরিবারের খরচ প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ঘরে পড়ে; শহর, স্কুল আর এক্সচেঞ্জ রেটভেদে কমবেশি হয়। কেউ যদি এর অর্ধেকে “সব হয়ে যাবে” বলে, বা উল্টো মোটা অঙ্কের “প্যাকেজ” ধরায় — দুটোতেই থামুন, খাতওয়ারি লিখিত হিসাব চান। যে খরচের ব্যাখ্যা নেই, সেটাই দালালের কমিশন।

স্পন্সর আর ব্যাংক-স্টেটমেন্ট — ইমিগ্রেশন আসলে কী দেখে

স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক কাগজের কেন্দ্রে থাকেন স্পন্সর — সাধারণত বাবা-মা বা রক্তসম্পর্কের অভিভাবক। লাগে: ব্যাংক-স্টেটমেন্ট ও ব্যালেন্স সার্টিফিকেট, আয়ের প্রমাণ (চাকরির বেতন-সনদ, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স, কৃষি-জমির আয়ের কাগজ, ট্যাক্স-রিটার্ন), আর আপনার সাথে সম্পর্কের প্রমাণ। এক বছরের প্রোগ্রামে মোটামুটি ২০-২৫ লাখ ইয়েনের সমমান — টাকায় প্রায় ১৬-২০ লাখের ঘরে — দেখাতে হয়; অঙ্কটা স্কুল ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

কিন্তু আসল কথাটা অঙ্ক না — গল্পের সামঞ্জস্য। ইমিগ্রেশন দেখে টাকাটা এল কোথা থেকে: স্পন্সরের ঘোষিত আয়ের সাথে ব্যাংকের লেনদেন মেলে কি, নাকি আবেদনের ঠিক আগে হুট করে বড় অঙ্ক ঢুকেছে। এই “রাতারাতি ঢোকা টাকা”ই সবচেয়ে কমন লাল পতাকা। তাই পরিকল্পনা আগে থেকে করুন — টাকা ৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে রাখা, আর প্রতিটি বড় জমার উৎসের ব্যাখ্যা (জমি বিক্রি, ডিপোজিট ভাঙানো) কাগজসহ তৈরি রাখা।

দালালের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রস্তাবটা এখানেই আসে: “ব্যাংক-স্টেটমেন্ট ম্যানেজ করে দেব।” ভাড়া করা টাকা বা বানানো কাগজ দিয়ে COE-র আবেদন মানে জেনেশুনে জালিয়াতি — ধরা পড়লে আবেদন বাতিল তো বটেই, আপনার নামে রেকর্ড থেকে যায়, আর জেনে রাখুন: জাপানে যাওয়ার পরেও তো টিউশন-খরচ চালাতে হবে; ভাড়া করা স্টেটমেন্টের পেছনে সত্যিকারের টাকা না থাকলে সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বেন আপনি নিজেই — বিদেশ-বিভুঁইয়ে, মাঝপথে।

পার্ট-টাইম কাজ — ২৮ ঘণ্টার নিয়ম আর সৎ হিসাব

নিয়মটা আগে: স্টুডেন্ট ভিসায় কাজ করতে হলে ইমিগ্রেশন থেকে অনুমতি (資格外活動許可) নিতে হয় — সাধারণত জাপানে নামার সময় এয়ারপোর্টেই আবেদন করা যায়। এরপর সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৮ ঘণ্টা কাজ বৈধ; লম্বা ছুটিতে দিনে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত। কাজ মেলে কনবিনি, রেস্টুরেন্টের কিচেন, ডেলিভারি, ফ্যাক্টরি, হোটেল-ক্লিনিং — এসবে; ঘণ্টাপ্রতি মজুরি অঞ্চলভেদে প্রায় ১০০০-১২৫০ ইয়েন, টোকিওতে বেশি।

এবার সৎ হিসাবটা করি: ২৮ ঘণ্টা করে মাসে মোটামুটি ১২০ ঘণ্টা কাজ করলে আয় দাঁড়ায় প্রায় ১.২ থেকে ১.৫ লাখ ইয়েন। এতে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেকটা উঠে আসে — কিন্তু টিউশনসহ পুরো খরচ ওঠে না, বিশেষ করে টোকিওতে। তাই দ্বিতীয় বছরের টিউশনের পরিকল্পনা দেশ থেকেই করে যান। “পার্ট-টাইমেই সব চলবে” ভেবে যাওয়া শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন — টাকার চাপে বেশি কাজ, বেশি কাজে পড়া নষ্ট, পড়া নষ্টে ভিসা-নবায়ন ঝুঁকিতে — এই চক্রটা চেনা ট্র্যাজেডি।

আর ২০২৬-এর তাজা খবর: ইমিগ্রেশন এখন ২৮-ঘণ্টা নিয়মের নজরদারি কড়া করেছে — নতুন নিয়মে ভাষা-স্কুলগুলোকে নিয়মিত (মোটামুটি তিন মাস অন্তর) শিক্ষার্থী কোথায় কত ঘণ্টা কাজ করছে তা যাচাই করে রিপোর্ট করতে হচ্ছে। সীমা ভাঙলে ভিসা-নবায়ন আটকে যায়, বড় লঙ্ঘনে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিও আছে। ক্লাসে উপস্থিতিও ইমিগ্রেশন দেখে — তাই সূত্রটা মনে রাখুন: আগে পড়া, তারপর কাজ; উল্টোটা করলে দুটোই হারায়।

ভাষা-স্কুল শেষে কোন পথ — আর দালাল থেকে বাঁচার শেষ কথা

ভাষা-স্কুলের দেড়-দুই বছর শেষে দরজা খোলে কয়েকটা: N2-মানে পৌঁছালে সেনমন গাক্কো বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি — পড়া শেষে জাপানি কোম্পানিতে চাকরি ও কাজের ভিসা, দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী বসবাসের পথ; আবার N4-মানসহ খাতভিত্তিক স্কিল-টেস্ট পাস করে SSW-তে সুইচ করাও যায় — যারা দ্রুত আয়ে যেতে চান, তাদের জন্য এটা বাস্তব বিকল্প। অর্থাৎ ভাষা-স্কুলে ভালো করলে পথ একটার জায়গায় তিনটা হয়; খারাপ করলে নবায়ন-জটিলতায় সব ক'টাই সরু হয়ে আসে।

দালাল-চেকলিস্টটা শেষবার মিলিয়ে নিন: “COE গ্যারান্টি” বলে কেউ থাকলে সে মিথ্যা বলছে — COE দেয় জাপানের ইমিগ্রেশন, কোনো এজেন্সি না; “জাপানি না শিখলেও চলবে” বললে সে ২০২৬-এর নিয়মই জানে না; রসিদ ছাড়া টাকা, পাসপোর্ট জমা রাখা, ভাড়া করা ব্যাংক-স্টেটমেন্ট — প্রতিটাই বিপদের সিঁড়ি। স্কুলের স্বীকৃতি, টিউশনের অঙ্ক, ইনটেকের তারিখ — সব নিজে অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করুন; ভালো এজেন্সি যাচাইকে ভয় পায় না, দালাল পায়।

শেষ কথাটা শিক্ষক হিসেবেই বলি: স্টুডেন্ট ভিসার পুরো যাত্রায় আপনার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ টাকা না — ভাষা। N5 এখন ভর্তিরই শর্ত, আর জাপানে পৌঁছে ভালো পার্ট-টাইম থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সবকিছু ভাষার ওপরই দাঁড়িয়ে। study.japanbangla.com-এ কানা থেকে N5 পর্যন্ত বাংলায় ব্যাখ্যাসহ ফ্রি-তে শেখা যায় — আজই শুরু করুন। ভিসার নিশ্চয়তা পৃথিবীর কেউ দিতে পারে না — আমরাও না; কিন্তু নিজের প্রস্তুতির নিশ্চয়তা আপনার হাতেই।

সচরাচর প্রশ্ন

JLPT N5 পাস না করে কি ভাষা-স্কুলে ভর্তি হওয়া যায়?

২০২৬ থেকে নিয়ম কড়া হয়েছে — ভাষা-স্কুলমুখী নতুন COE আবেদনে JLPT N5 বা সমমান পরীক্ষা (JFT-Basic, NAT, J.TEST ইত্যাদি) পাসের যাচাইযোগ্য প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে; সাথে দেশে ১৫০+ ঘণ্টা জাপানি শেখার সার্টিফিকেটও লাগে। শুধু কেনা সার্টিফিকেটে আর কাজ হয় না। নিয়মের খুঁটিনাটি স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই আবেদনের আগে স্কুল থেকে হালনাগাদ চাহিদা জেনে নিন — আর সত্যি সত্যি N5 লেভেলটা শিখে ফেলুন, কারণ জাপানে গিয়ে এটাই আপনার পুঁজি।

ব্যাংকে কত টাকা দেখাতে হয়?

এক বছরের প্রোগ্রামে সাধারণত ২০-২৫ লাখ ইয়েনের সমমান — টাকায় প্রায় ১৬-২০ লাখের ঘরে — দেখাতে হয়; অঙ্কটা স্কুল, প্রোগ্রামের দৈর্ঘ্য ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল। তবে অঙ্কের চেয়ে জরুরি টাকার ইতিহাস: স্পন্সরের আয়ের সাথে ব্যালেন্স মেলে কি না, আর আবেদনের ঠিক আগে হুট করে বড় জমা পড়েছে কি না। ভাড়া করা বা বানানো স্টেটমেন্ট দিলে ধরা পড়ার ঝুঁকি খুব বেশি, আর ধরা পড়লে ভবিষ্যতের আবেদনও কঠিন হয়ে যায়।

পার্ট-টাইম কাজ করে কি টিউশনসহ সব খরচ উঠে যাবে?

না — এটা সৎভাবে জেনে যাওয়া জরুরি। সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টার সীমায় মাসে আয় হয় প্রায় ১.২-১.৫ লাখ ইয়েন, যাতে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেকটা চলে, কিন্তু টিউশনসহ পুরো খরচ ওঠে না। তার ওপর ২০২৬ থেকে ২৮-ঘণ্টা নিয়মের নজরদারি কড়া হয়েছে — স্কুলগুলোকে নিয়মিত শিক্ষার্থীর কাজের হিসাব যাচাই করতে হয়, সীমা ভাঙলে ভিসা-নবায়ন আটকায়। দ্বিতীয় বছরের টিউশনের পরিকল্পনা দেশ থেকেই করে যান।

এইচএসসির পর স্টাডি-গ্যাপ আছে — ভিসা হবে?

গ্যাপ থাকলেই আবেদন বাতিল হয় না, তবে ইমিগ্রেশন গ্যাপের যৌক্তিক ব্যাখ্যা চায় — এই সময়ে কী করেছেন (চাকরি, ব্যবসা, কোর্স) তার কাগজসহ। গ্যাপ যত বড়, ব্যাখ্যা তত জোরালো হওয়া চাই, আর জাপানি শেখার প্রমাণ ও পড়ার স্পষ্ট উদ্দেশ্য দেখানো তখন আরও জরুরি হয়ে ওঠে। বানানো গল্প না — যা সত্যি, সেটাই কাগজসহ গুছিয়ে উপস্থাপন করুন।

COE পেয়ে গেলেই কি ভিসা নিশ্চিত?

COE মানে জাপানের ইমিগ্রেশন আপনার যোগ্যতা যাচাই করে ছাড়পত্র দিয়েছে — এরপর দূতাবাসে ভিসা প্রায় সবাই পান, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দূতাবাসের হাতে; শতভাগ নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। আর উল্টো দিকটা মনে রাখুন: COE কেনাবেচার জিনিস না — কোনো এজেন্সি “COE গ্যারান্টি” দিলে সেটাই সবচেয়ে বড় লাল পতাকা।

ভাষা-স্কুলের কোর্স কত দিনের, আর কোন ইনটেক ভালো?

ইনটেক চারটা — এপ্রিল (২ বছরের কোর্স, সবচেয়ে বড়), অক্টোবর (দেড় বছর), জুলাই ও জানুয়ারি (ছোট ইনটেক) — সবার শেষ মেলে এপ্রিলের ভর্তি-মৌসুমে। কোনটা “ভালো” তার চেয়ে বড় প্রশ্ন আপনি তৈরি কি না: N5, টাকার গোছগাছ আর কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে যেকোনো ইনটেকই ভালো। প্রক্রিয়া শুরু করতে হয় ইনটেকের অন্তত ৫-৬ মাস আগে — তাড়াহুড়োয় দুর্বল ফাইল দেওয়ার চেয়ে পরের ইনটেক ধরা বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রস্তুতি শুরু করতে চান?

ফ্রি-তে হিরাগানা থেকে শুরু করুন — ছবি-গল্পে মুখস্থ, উচ্চারণসহ।