SSW (特定技能) ভিসার সম্পূর্ণ গাইড — বাংলাদেশিদের জন্য

সর্বশেষ হালনাগাদ: 2026-07

SSW কী — আর জাপান কেন এই ভিসা চালু করল

SSW মানে Specified Skilled Worker, জাপানি ভাষায় 特定技能 (টোকুতেই গিনো) — “নির্দিষ্ট দক্ষতা”। জাপানের সমাজ দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে: তরুণ কর্মী কমছে, অথচ হাসপাতাল-কেয়ারহোম, খেত-খামার, কারখানা, নির্মাণক্ষেত্র — সবখানে হাত দরকার। এই শ্রমিক-সংকট মেটাতেই ২০১৯ সালে জাপান সরকার SSW ভিসা চালু করে — নির্দিষ্ট কিছু খাতে, ভাষা ও দক্ষতার পরীক্ষা পাস করা বিদেশি কর্মীদের সরাসরি কাজের ভিসায় নেওয়ার ব্যবস্থা।

আগের টেকনিক্যাল ইন্টার্ন (TITP) প্রোগ্রামের সাথে SSW-র বড় পার্থক্য হলো মর্যাদায়। SSW-তে আপনি “প্রশিক্ষণার্থী” না, পূর্ণাঙ্গ কর্মী — নিয়ম অনুযায়ী জাপানি সহকর্মীর সমমানের বেতন পাওয়ার কথা, একই খাতের ভেতরে চাকরি বদলানোর অধিকারও আছে। আর নিয়োগদাতা বা তার নিযুক্ত রেজিস্টার্ড সাপোর্ট অর্গানাইজেশন (登録支援機関) আপনাকে জাপানে নামার পর বাসা খোঁজা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সরকারি কাগজপত্র — এসবে সহায়তা দিতে বাধ্য।

সুযোগটা যে সত্যি, সংখ্যাই তার প্রমাণ: ২০২৫ সালের জুনে জাপানে SSW কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার — আগের বছরের চেয়ে অনেকটা বেশি; আর ২০২৪-২৮ অর্থবছরে সরকার প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার SSW-1 কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছে। কিন্তু সুযোগের পাশাপাশি শর্তটাও সত্যি: দুটো পরীক্ষা পাস না করে এই ভিসার দরজায় পৌঁছানোর কোনো বৈধ পথ নেই। এই গাইডে আমরা পুরো পথটা ধাপে ধাপে, কোনো রঙচঙ না মাখিয়ে দেখব।

SSW-1 বনাম SSW-2 — পার্থক্যটা পরিষ্কার জানুন

SSW-র দুটো ধাপ। SSW-1 হলো প্রবেশদ্বার: এই ভিসায় জাপানে মোট সর্বোচ্চ ৫ বছর কাজ করা যায়, নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তর নবায়ন করতে হয়। সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা — SSW-1-এ স্ত্রী-সন্তান সঙ্গে নেওয়া যায় না। এটা শুনতে কঠিন লাগলেও আগে থেকে জেনে পরিকল্পনা করাই ভালো; অনেকে না জেনে গিয়ে পরে মানসিক কষ্টে পড়েন।

SSW-2 হলো উঁচু ধাপ: উচ্চতর স্কিল-টেস্ট পাস আর বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা (অনেক খাতে সুপারভাইজার-পর্যায়ের) দেখিয়ে SSW-1 থেকে উন্নীত হওয়া যায়। SSW-2-তে ভিসা নবায়নের কোনো সীমা নেই, স্ত্রী-সন্তান নেওয়া যায়, আর শর্ত পূরণ করলে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের পথও খোলে। অর্থাৎ SSW আসলে একটা সিঁড়ি — নিচের ধাপে কষ্ট বেশি, ওপরের ধাপে স্থিতি।

একটা জরুরি খুঁটিনাটি: ১৬ খাতের সবগুলোতে SSW-2 নেই। এখন পর্যন্ত ১১টি খাতে SSW-2 চালু; কেয়ারগিভিং আর ২০২৪-এ যোগ হওয়া নতুন চার খাতে (গাড়িচালনা-পরিবহন, রেলওয়ে, বনায়ন, কাঠশিল্প) SSW-2 নেই। তবে কেয়ারগিভিংয়ের জন্য হতাশ হওয়ার কারণ নেই — সেখানে জাতীয় কেয়ার-ওয়ার্কার যোগ্যতা (介護福祉士) অর্জন করে আলাদা “কেয়ার” ভিসায় যাওয়া যায়, যাতে পরিবার নেওয়া ও দীর্ঘমেয়াদে থাকা দুটোই সম্ভব। নিয়ম সময়ভেদে বদলায়, তাই সিদ্ধান্তের আগে অফিসিয়াল তথ্য দেখে নেবেন।

১৬টি খাত — বাংলাদেশিদের জন্য কোনগুলো বাস্তবসম্মত

২০২৪ সালের সম্প্রসারণের পর SSW-র খাত এখন ১৬টি: কেয়ারগিভিং (介護), বিল্ডিং ক্লিনিং, শিল্প-পণ্য ম্যানুফ্যাকচারিং, কনস্ট্রাকশন, জাহাজনির্মাণ, অটোমোবাইল মেইনটেন্যান্স, এভিয়েশন (গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং), হোটেল-অ্যাকমোডেশন, কৃষি, মৎস্য, খাদ্য-পানীয় উৎপাদন, ফুড সার্ভিস (রেস্টুরেন্ট), গাড়িচালনা-পরিবহন, রেলওয়ে, বনায়ন ও কাঠশিল্প। শেষের চারটি ২০২৪-এ নতুন যোগ হয়েছে।

বাংলাদেশিদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাস্তবসম্মত দেখা যায়: কেয়ারগিভিং (চাহিদা সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি), কৃষি, খাদ্য-পানীয় উৎপাদন, কনস্ট্রাকশন, বিল্ডিং ক্লিনিং, ম্যানুফ্যাকচারিং আর হোটেল-অ্যাকমোডেশন — কারণ এসব খাতে নিয়োগ বেশি আর স্কিল-টেস্টে বসার সুযোগও তুলনামূলক সহজে মেলে। উল্টোদিকে গাড়িচালনা বা রেলওয়ের মতো খাতে জাপানি লাইসেন্স ও উঁচু ভাষা-দক্ষতা লাগে — শুরুর জন্য এগুলো কঠিন পথ। কোন খাতে কত নিয়োগ হবে তা সময়ভেদে বদলায়, তাই খাত বাছাইয়ের আগে হালনাগাদ চাহিদা দেখে নিন।

একটা তাজা সতর্কতা ২০২৬ সালেরই: ফুড সার্ভিস (রেস্টুরেন্ট) খাতে ৫০ হাজার কর্মীর কোটা প্রায় পূরণ হয়ে যাওয়ায় জাপানের ইমিগ্রেশন ২০২৬-এর মার্চে ঘোষণা দিয়ে এপ্রিল থেকে এই খাতে নতুন COE আবেদন নেওয়া স্থগিত করেছে — যারা আগে থেকে এই খাতে কর্মরত, তাদের নবায়ন অবশ্য চলছে। এখান থেকে শিক্ষা দুটো: এক, খাতের কোটা ও নিয়ম বদলায়, তাই অফিসিয়াল আপডেটে চোখ রাখুন; দুই, এক খাতে অন্ধভাবে আটকে না থেকে কাছাকাছি বিকল্প খাত (যেমন খাদ্য-পানীয় উৎপাদন) মাথায় রাখুন। ভাষার প্রস্তুতি কোনো খাতেই নষ্ট হয় না।

দুটো পরীক্ষা-শর্ত — ভাষা আর স্কিল-টেস্ট

SSW-1-এর যোগ্যতার মূল কাঠামো সহজ: বয়স ১৮+, আর দুটো পরীক্ষা পাস। প্রথমটা ভাষার — JFT-Basic পরীক্ষায় CEFR A2 লেভেল (২৫০-এর মধ্যে ২০০+ স্কোর) অথবা JLPT N4; দুটোর যেকোনো একটা হলেই চলে। ডিগ্রি বা আগের চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক না — এটাই SSW-কে অনেকের জন্য নাগালের ভেতরের পথ করেছে। JFT-Basic নিয়ে আমাদের আলাদা বিস্তারিত গাইড আছে, প্রস্তুতির আগে সেটা পড়ে নিন।

দ্বিতীয়টা খাতভিত্তিক স্কিল-টেস্ট — যে খাতে কাজ করবেন, সেই খাতের কাজের বেসিক জ্ঞান ও নিরাপত্তা-নিয়ম মাপা হয়। যেমন কেয়ারগিভিংয়ে রোগী-সেবার মৌলিক নিয়ম, কৃষিতে চাষ-খামারের বেসিক, কনস্ট্রাকশনে নিরাপত্তা-প্রক্রিয়া। কেয়ারগিভিংয়ে বাড়তি আরেকটা কেয়ার-বিষয়ক জাপানি ভাষা পরীক্ষাও (介護日本語評価試験) দিতে হয়। মনে রাখবেন — স্কিল-টেস্টের প্রশ্ন মূলত জাপানিতে হয়, তাই ভাষা আগে শিখলে স্কিল-টেস্টও অর্ধেক সহজ হয়ে যায়।

কোথায় পরীক্ষা দেবেন? JFT-Basic বাংলাদেশে প্রোমেট্রিক সেন্টারে বছরজুড়ে দেওয়া যায়; JLPT নির্দিষ্ট তারিখে হয়। কিন্তু স্কিল-টেস্ট কোন খাতেরটা কোন দেশে কবে হবে — এটা খাত ও সময়ভেদে অনেক বদলায়; কিছু টেস্ট বাংলাদেশে হয়েছে, কিছুর জন্য অন্য দেশে বা জাপানে গিয়ে দিতে হয়। তাই নিজের খাতের টেস্টের সময়সূচি সংশ্লিষ্ট খাতের অফিসিয়াল সাইট ও প্রোমেট্রিকের পেজ থেকে নিজে যাচাই করুন। আর একটা ব্যতিক্রম জেনে রাখুন: যারা TITP-র দ্বিতীয় ধাপ (技能実習2号) সফলভাবে শেষ করেছেন, তারা সংশ্লিষ্ট খাতে দুই পরীক্ষাতেই ছাড় পান — তবে বাংলাদেশ থেকে নতুন যাত্রা শুরু করা মানুষের জন্য পরীক্ষাই একমাত্র পথ।

বাংলাদেশ থেকে ধাপে ধাপে — পরীক্ষা থেকে ভিসা পর্যন্ত

ধাপ ১ ও ২ — ভাষা শিখে দুই পরীক্ষা পাস করুন: আগে কানা ও বেসিক থেকে শুরু করে A2/N4 লেভেল, তারপর JFT-Basic বা JLPT N4, এরপর নিজের খাতের স্কিল-টেস্ট। পাস করার পর স্কোর রিপোর্ট ও সার্টিফিকেট যত্নে রাখুন — পরের প্রতিটি ধাপে এগুলোই আপনার মূল কাগজ। জেনে রাখুন, জাপান-বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৯ সালে SSW নিয়ে সমঝোতা স্মারক (MOC) সই হয়েছে — অর্থাৎ বাংলাদেশ এই প্রোগ্রামের স্বীকৃত সেন্ডিং-দেশগুলোর একটি।

ধাপ ৩ — চাকরি খোঁজা ও ম্যাচিং: পরীক্ষা পাস মানেই চাকরি না; এবার জাপানি নিয়োগদাতা খুঁজতে হয়। পথ তিনটা — সরকারি চ্যানেল (BOESL/BMET-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি), সরকারি লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি, অথবা সরাসরি নিয়োগদাতা/সাপোর্ট অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে। ইন্টারভিউ প্রায়ই অনলাইনে হয় এবং জাপানিতে — এখানেই ভাষা ভালো জানা প্রার্থীরা এগিয়ে যান। যে চ্যানেলেই যান, লাইসেন্স ও পরিচয় নিজে যাচাই করুন।

ধাপ ৪ ও ৫ — চুক্তি, COE, ভিসা: চাকরি মিললে লিখিত চুক্তি হবে — বেতন, ওভারটাইম, থাকার ব্যবস্থা, কী কী খরচ কাটা হবে, সব নিজে পড়ে-বুঝে তবেই সই করুন। এরপর নিয়োগদাতা জাপানের ইমিগ্রেশনে আপনার COE (Certificate of Eligibility)-র আবেদন করে — এতে সাধারণত এক থেকে তিন মাস লাগে, সময়টা পরিবর্তনশীল। COE হাতে এলে ঢাকার জাপান দূতাবাস/নির্ধারিত ভিসা সেন্টারে ভিসার আবেদন করবেন। ভিসা পেলে টিকিট ও প্রাক-যাত্রা প্রস্তুতি; জাপানে নামার পর সাপোর্ট অর্গানাইজেশন বাসা, ব্যাংক, রেসিডেন্স-কার্ড ইত্যাদিতে সহায়তা দেবে। খেয়াল করুন — পুরো প্রক্রিয়ার কোথাও “ভেতরের লোক ধরে” করার কিছু নেই; সবটাই কাগজে-কলমে স্বচ্ছ।

খরচের বাস্তব ধারণা — কোথায় টাকা লাগে, কোথায় লাগে না

প্রথমে নিয়মটা জানুন: জাপানের আইনে SSW কর্মীর কাছ থেকে জামানত (ডিপোজিট) নেওয়া বা চুক্তিভঙ্গের জরিমানা ধরা নিষিদ্ধ, আর নিয়োগ-সংক্রান্ত বড় খরচ নিয়োগদাতার বহন করার কথা। আপনার ন্যায্য খরচ মূলত: ভাষা শেখার প্রস্তুতি, পরীক্ষার ফি (একাধিকবার দিলে বাড়ে), পাসপোর্ট, মেডিকেল, আর সরকারি প্রসেসিং-সংক্রান্ত ফি; টিকিট অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা দেয়, না দিলে সেটাও যোগ হবে। টাকায় মোট কত পড়বে তা এজেন্সি, খাত ও সময়ভেদে ভিন্ন — তবে স্টুডেন্ট ভিসার তুলনায় SSW-র খরচ অনেক কম হওয়ারই কথা।

এই জায়গাতেই দালালেরা খেলে। কেউ যদি “সব মিলিয়ে” বলে কয়েক লাখ টাকার প্যাকেজ ধরিয়ে দিতে চায়, থামুন — খাতওয়ারি লিখিত হিসাব চান: কোন টাকাটা কীসের জন্য, রসিদসহ। যে খরচের ব্যাখ্যা নেই, সেটা আসলে দালালের কমিশন। মনে রাখবেন, SSW-র আসল “বিনিয়োগ” টাকা না — সময় আর পড়াশোনা। পরীক্ষা দুটো নিজে পাস করলে টাকার খেলাটা এমনিতেই ছোট হয়ে আসে।

সময়রেখাও সৎভাবে বলি: শূন্য থেকে শুরু করলে ভাষায় A2/N4 লেভেলে পৌঁছাতে নিয়মিত পড়ে সাধারণত ৬ মাস থেকে এক বছর, তারপর স্কিল-টেস্ট ও জব-ম্যাচিংয়ে কয়েক মাস, COE ও ভিসা প্রসেসিংয়ে আরও কয়েক মাস। সব মিলিয়ে অনেকের যাত্রা এক থেকে দুই বছরের মধ্যে ঘোরাফেরা করে — কারো কম, কারো বেশি। যে বিজ্ঞাপন “৩ মাসে জাপান” বলে, সে হয় আপনাকে চেনে না, নয়তো ঠকাতে চায়।

বেতন আর জীবনযাত্রা — সৎ চিত্রটা কেমন

নিয়ম অনুযায়ী SSW কর্মীকে একই কাজে নিয়োজিত জাপানি কর্মীর সমমানের বেতন দিতে হয়, আর শ্রম আইনের সুরক্ষা — ন্যূনতম মজুরি, ওভারটাইমের হার, ছুটি — সবই সমানভাবে প্রযোজ্য। শুরুর মোট বেতন খাত ও অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়; অনেক খাতে মাসে মোটামুটি ২ লাখ ইয়েনের আশপাশে শুরু হতে দেখা যায় — সংখ্যাটা আনুমানিক ও পরিবর্তনশীল, তাই চূড়ান্ত ভরসা সবসময় আপনার নিজের চুক্তিপত্র।

তবে মোট বেতন আর হাতে পাওয়া টাকা এক জিনিস না — এটা আগে থেকে জানা খুব জরুরি। বেতন থেকে আয়কর, বাসিন্দা-কর, স্বাস্থ্যবিমা, পেনশন আর প্রায়ই কোম্পানির দেওয়া বাসার ভাড়া কাটা হয়; সব কাটার পর হাতে যা থাকে তা মোট অঙ্কের চেয়ে বেশ কম। টোকিওর মতো বড় শহরে জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল, ছোট শহরে একই বেতনে সঞ্চয় বেশি হয়। তাই চুক্তিতে “কী কী কাটা হবে” অংশটা সবচেয়ে মন দিয়ে পড়ুন।

কাজের বাস্তবতাও বলি: কেয়ারগিভিং, কৃষি, কনস্ট্রাকশন — এসব কাজ শারীরিকভাবে কঠিন, আর জাপানের কর্মক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মের কড়াকড়ি আমাদের দেশের চেয়ে অনেক বেশি। যারা ভাষা জানেন, সহকর্মীদের সাথে মিশতে পারেন, তারা কাজেও সম্মান পান, SSW-2-র সিঁড়িতেও আগে ওঠেন। ধৈর্য ধরে কাজ করলে সঞ্চয় ও পরিবারকে টাকা পাঠানো — দুটোই সম্ভব; কিন্তু “গিয়েই রাতারাতি ধনী” গল্পটা দালালের, বাস্তবের না।

দালাল-প্রতারণা থেকে বাঁচার চেকলিস্ট

সবচেয়ে বড় লাল পতাকাটা আগে বলি: কেউ যদি বলে “পরীক্ষা ছাড়াই SSW”, “১০০% ভিসা কনফার্ম”, “COE কিনে দিচ্ছি” — সে মিথ্যা বলছে, এক কথায়। SSW-র ভাষা ও স্কিল-টেস্টের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই, আর COE বা ভিসা কেনাবেচার জিনিস না — ওটা জাপানের ইমিগ্রেশন যাচাই করে দেয়, কোনো দালাল না। ভিসার নিশ্চয়তা পৃথিবীর কেউ দিতে পারে না — আমরাও না।

ব্যবহারিক চেকলিস্ট: এজেন্সির সরকারি লাইসেন্স নিজে যাচাই করুন; রসিদ ছাড়া এক টাকাও দেবেন না; লিখিত চুক্তি ছাড়া কোনো প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করবেন না; পাসপোর্ট সবসময় নিজের কাছে রাখুন — কেউ “জমা রাখতে” চাইলে সরে আসুন; আর চুক্তিপত্র না বুঝলে জাপানি-জানা বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে পড়িয়ে নিন। পরীক্ষার তারিখ, ফি, খাতের কোটা — সব তথ্য অফিসিয়াল সাইট থেকে মিলিয়ে নিন; ফেসবুকের পোস্ট বা মুখের কথায় ভরসা না।

শেষমেশ সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ আপনি নিজেই। যে মানুষ নিজে ভাষা জানে আর প্রক্রিয়াটা বোঝে, তাকে ঠকানো খুব কঠিন — কারণ দালালের পুরো ব্যবসাটাই মানুষের না-জানার ওপর দাঁড়িয়ে। এই গাইড পড়ে আপনি সেই না-জানার দেয়ালটা ভাঙতে শুরু করেছেন; এবার পরিচিত যারা জাপানের স্বপ্ন দেখছেন, তাদেরও সঠিক তথ্যটা জানিয়ে দিন।

আজ কোথা থেকে শুরু করবেন

SSW-র পুরো পথের প্রথম ইটটা ভাষা — কারণ ভাষা ছাড়া JFT-Basic নেই, স্কিল-টেস্ট কঠিন, ইন্টারভিউ অসম্ভব, আর জাপানে গিয়ে টিকে থাকাও কষ্টের। তাই আজ থেকেই শুরু করুন: আগে হিরাগানা-কাতাকানা, তারপর N5 লেভেলের ভিত, তারপর A2/N4-এর প্রস্তুতি — দিনে ৩০-৬০ মিনিটের নিয়মিত রুটিনই যথেষ্ট। পাশাপাশি নিজের বয়স, শারীরিক সামর্থ্য আর আগ্রহ মিলিয়ে কোন খাতে যাবেন সেটা ভাবতে থাকুন, আর সেই খাতের স্কিল-টেস্টের সিলেবাসে চোখ বুলান।

study.japanbangla.com-এ কানা থেকে শুরু করে বাংলায় ব্যাখ্যাসহ ধাপে ধাপে ফ্রি-তে শেখা যায় — JFT-Basic-মুখী জীবনঘেঁষা প্রস্তুতিসহ। শেষ কথাটা শিক্ষক হিসেবেই বলি: SSW কোনো লটারি না, এটা একটা পরিষ্কার সিলেবাসওয়ালা পরীক্ষা-নির্ভর পথ — যে নিয়মিত পড়ে, সে-ই এগোয়। ভিসার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না, কিন্তু নিজের প্রস্তুতির নিশ্চয়তা আপনি নিজেই দিতে পারেন। আজই প্রথম ধাপটা নিন।

সচরাচর প্রশ্ন

SSW ভিসার জন্য কি ডিগ্রি বা আগের কাজের অভিজ্ঞতা লাগে?

না। SSW-1-এর মূল শর্ত: বয়স ১৮+, ভাষার পরীক্ষা (JFT-Basic-এ A2 বা JLPT N4) এবং খাতভিত্তিক স্কিল-টেস্ট পাস। ডিগ্রি বা আগের চাকরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক না — তবে কেয়ারগিভিং খাতে বাড়তি একটা কেয়ার-বিষয়ক জাপানি ভাষা পরীক্ষা দিতে হয়, আর খাতভেদে নিয়োগদাতার নিজস্ব পছন্দ থাকতে পারে।

পরীক্ষা ছাড়া কি কোনোভাবে SSW ভিসা পাওয়া যায়?

বাংলাদেশ থেকে নতুন প্রার্থীর জন্য — না। একমাত্র ব্যতিক্রম হলো যারা জাপানে TITP-র দ্বিতীয় ধাপ (技能実習2号) সফলভাবে শেষ করেছেন; তারা সংশ্লিষ্ট খাতে ভাষা ও স্কিল-টেস্টে ছাড় পান। কেউ যদি বলে টাকা দিলে পরীক্ষা ছাড়াই SSW করিয়ে দেবে, সেটা নিশ্চিত প্রতারণা — সেখান থেকে সরে আসুন।

SSW-1 থেকে SSW-2-তে কীভাবে উঠব, আর পরিবার কবে আনতে পারব?

SSW-1-এ পরিবার আনা যায় না। কাজের অভিজ্ঞতা জমিয়ে (অনেক খাতে সুপারভাইজার-পর্যায়ের) উচ্চতর স্কিল-টেস্ট পাস করলে SSW-2-তে উন্নীত হওয়া যায় — তখন ভিসা নবায়নের সীমা থাকে না এবং স্ত্রী-সন্তান আনা যায়। এখন পর্যন্ত ১৬ খাতের ১১টিতে SSW-2 চালু; কেয়ারগিভিংয়ে SSW-2 নেই, তবে 介護福祉士 যোগ্যতা নিয়ে আলাদা কেয়ার-ভিসায় একই সুবিধা পাওয়া যায়।

শুনলাম ফুড সার্ভিস খাতে SSW বন্ধ — তাহলে কি SSW-ই বন্ধ হয়ে গেল?

না, পুরো SSW বন্ধ হয়নি। ২০২৬-এর এপ্রিল থেকে শুধু ফুড সার্ভিস (রেস্টুরেন্ট) খাতে নতুন COE আবেদন স্থগিত হয়েছে, কারণ ওই খাতের ৫০ হাজার কর্মীর কোটা প্রায় পূরণ — যারা আগে থেকে কর্মরত, তাদের নবায়ন চলছে। বাকি খাতগুলো খোলা। এই খাতের প্রস্তুতি নিয়ে থাকলে কাছাকাছি বিকল্প — যেমন খাদ্য-পানীয় উৎপাদন বা হোটেল-অ্যাকমোডেশন — ভাবতে পারেন; ভাষার প্রস্তুতি কোনো খাতেই নষ্ট হয় না। সর্বশেষ অবস্থা অফিসিয়াল সাইটে দেখে নিন।

SSW-তে মাসে কত বেতন পাব?

নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা সৎ হবে না — বেতন খাত, অঞ্চল ও কোম্পানিভেদে ভিন্ন। নিয়ম হলো জাপানি সহকর্মীর সমমানের বেতন; অনেক খাতে শুরুর মোট বেতন মাসে মোটামুটি ২ লাখ ইয়েনের আশপাশে দেখা যায় (আনুমানিক)। মনে রাখবেন, কর, বিমা, পেনশন ও বাসাভাড়া কাটার পর হাতে থাকে বেশ কম — তাই চুক্তিপত্রে মোট বেতন আর কাটছাঁটের হিসাব দুটোই দেখে নিন।

বাংলাদেশ থেকে কোন কোন পরীক্ষা দেওয়া যায়?

JFT-Basic বাংলাদেশে প্রোমেট্রিক টেস্ট-সেন্টারে বছরজুড়ে দেওয়া যায়; JLPT নির্দিষ্ট তারিখে হয়। খাতভিত্তিক স্কিল-টেস্টের ক্ষেত্রে ছবিটা পরিবর্তনশীল — কিছু খাতের টেস্ট বাংলাদেশে হয়েছে, কিছুর জন্য অন্য দেশে বা জাপানে দিতে হয়। আপনার খাতের টেস্ট কোথায় কবে হবে, তা সংশ্লিষ্ট খাতের অফিসিয়াল সাইট ও প্রোমেট্রিকের পেজ থেকে নিজে যাচাই করুন।

প্রস্তুতি শুরু করতে চান?

ফ্রি-তে হিরাগানা থেকে শুরু করুন — ছবি-গল্পে মুখস্থ, উচ্চারণসহ।